যশোরের সংবাদপত্র অঙ্গনের সুপরিচিত ও প্রিয় মুখ, ‘গ্রামের কাগজ’-এর সাবেক কম্পিউটার অপারেটর আবু সাইদ সাগরকে শেষ বিদায় জানানো হলো চোখের জলে, শোকভেজা হৃদয়ে। মঙ্গলবার বারান্দীপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বারান্দীপাড়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় ইমামতি করেন সাগরের জমজ ভাই এবং ‘গ্রামের কাগজ’-এর চিফ কম্পিউটার অপারেটর আবু সাআদ শাওন।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের স্ট্রোক ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাগরের মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)। মৃত্যুসংবাদের পর রাত থেকেই শাওনের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় জমে। হঠাৎ এই বিদায় যেন কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না।
জানাজার পূর্বে এক আবেগঘন বক্তব্যে ‘গ্রামের কাগজ’-এর সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন বলেন,
“শাওন ও সাগরের হাত ধরেই ‘গ্রামের কাগজ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। কম্পিউটার বিভাগে সাগর ছিলেন নীরব এক কর্মযোদ্ধা। তাঁর মতো নিবেদিত কর্মী আমাদের জন্য ছিল এক অমূল্য সম্পদ। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়।”
বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অনেকেই সে সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
সমাবেশে আরও স্মৃতিচারণা করেন সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা। উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বাবার জন্য দোয়া চায় সাগরের একমাত্র পুত্র রাজিন মাহমুদ।
জানাজায় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলার ভোর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ আবুল কালাম ছামছুদ্দীন, কল্যাণের নির্বাহী সম্পাদক এহসান-উদ-দ্দৌলা মিথুন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও গ্রামের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধি দেওয়ান মোর্শেদ আলম, সহকারী সম্পাদক জাহিদ আহমেদ লিটন, সিটি ইনচার্জ শিমুল ভুঁইয়া, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর ফারুক তারেক, ছাপাখানা মালিক সমিতির নেতা আবুল কাশেমসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে আবু সাইদ সাগর নিষ্ঠার সঙ্গে যশোরের একাধিক সংবাদপত্রে কম্পিউটার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, মা, ভাইসহ বহু সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।